এই কারনে আপনি চাকরি পাচ্ছেন না…

তাড়াহুড়া; এই তাড়াহুড়াই একমাত্র কারন যে কারনে আপনি চাকরি পাচ্ছেন না। আমার নানার কাছে গিয়ে আমি একদিন বলেছিলাম, নানা আমার একটা কাজ দরকার, তোমারতো অনেক জানাশুনা, আমাকে একটা জবের ব্যবস্থা করে দাও কুইকলি। এই যে, লাইনটার শেষে কুইকলি শব্দটা ইউজ করেছিলাম সেটাই আমার জন্য ৩ বছরের কাল হয়ে দাড়িয়েছিল।

আমার নানা অনেক পাওয়ারফুল পারসন ছিলেন, (এখনো আছেন আল্লাহর রহমতে), এবং তিনি যদি চাইতেন তাহলে অনেক বড় অফিসে যেকোন একটা চাকরি আমাকে জোগার করে দিতে পারতেন। আমার নানার ফ্রেন্ডদেরই অনেকের বড় বড় ডেপেলপার ফার্ম আছে। বন্ধুদের সাথে নানার গলায় গলায় সম্পর্ক। নানা বন্ধুদেরকে বলেছে কিন্তু কাজ হয়নি এমন ঘটনা আজ পর্যন্ত চোখে পড়েনি আমার।

কিন্তু না, নানা দিলেননা আমাকে চাকরির ব্যবস্থা করে। না দিয়ে বললেন, আজ থেকে ৩০ দিন যদি আমাদের ঘরের যাবতীয় কাচা বাজার তুই করতে পারিস তাহলে তোকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিব। আমি চ্যলেন্সটা নেইনি। বাজারে যাব আমি, তাও আবার কাচা বাজারে, এটা আমি ভাবতেই পারিনা। সব সময় হাইফাই চাকচিক্যময় শপিং মলে টো টো করে ঘুরে ঘুরে বড় হয়েছি, আর এখন যাব কাচা বাজারে, ইম্পসিবল।

নানাকে বলেছিলাম, না নানা, আমি পারবো না, থাক লাগবেনা আমার চাকরি।

কিন্তু চাকরি আমার এতো দরকার কেন ছিল সেটা একটু বলা দরকার। টাকা পয়সা হাতখরচ মোটামোটা ভালই থাকতো সবসময়, বাবা দিতেন, কিন্তু একটা জিনিস সব সময় অভাব বোধ করতাম। আর সেটা হল, কনফিডেন্ট। বন্ধুরা প্রায় সব এটা ওটা জব করতো কিন্তু আমি জাস্ট তাদের জিগরি বন্ধু ছিলাম কিন্তু কর্পোরেট অফিসিয়াল আলোচনা যখন সবাই শুরু করতো তখন আমি হা করে থাকতাম। ব্যপারটা আমাকে সবসময়ই পেরার মধ্যে রাখতো, নিজের বেকুব বলে মনে হতো।

এইসব কারনে চাকরি একটা যেভাবেই হোক আমার খুব তারাতারি দরকার ছিল।

যাইহোক, তারাহুরো করে নানার কাছে চেয়ে কাটিয়ে দিয়েছিলাম আড়াই বছর, বাজারেও যাওয়া হয়নি, চাকরিও কপালে জোটেনি, কেটে গিয়েছে আড়াই বছর বন্ধুদের সাথে বেকুব মেন্টালিটি নিয়েই।

আড়াই বছর পর আমি নিজেই বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে বাজারে যেতে শুরু করেছিলাম। নানা ব্যাপারটি লক্ষ করেছিল নিজ থেকেই। যেহতু নানার কথা প্রথমেই শুনিনি তাই নানাকে আগে থেকে কিছুই জানাইনি। কিন্তু নানা দেখেছেন সবই। ফলে প্রায় ২৫ দিনের মাথাতেই বলেছিলেন, ব্যটা, আমার বন্ধু মাফুজের অফিসে চলে যা, মাফুজকে বলে দেয়া আছে, একজন লোক আছে যে ভাল বাজার করতে পারে, তোর কোম্পানির বায়িং সেকশনে কাজে লাগবে।

আমি সেদিনই গিয়েছিলাম, গিয়ে দেখি মাফুজ নামের নানার বন্ধুর অফিসে আমার জন্য একটা বেশ ভাল পদের জব রেখে দেয়া হয়েছে। আমি সেখানে জয়েন করে কাজ শুরু করেছিলাম।

যদি প্রথমেই তারাহুরো না করে, নানার কথা শুনতাম তাহলে আমাকে ৩ বছর অপেক্ষা করতে হতোনা।

মাফুজ ভাই, আমাকে পরে বলেছিলেন, তোমার নানা, কুইকলি শব্দটা মনেপ্রানে ঘৃনা করে!

কিছু বলার থাকলে লিখতে পারেন। কমেন্টে কেউ মোবাইল নং লিখবেন না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *